বিদ্যুৎ ট্যারিফের ইতিহাস: ২০২০–২০২৫
২০২০ থেকে ২০২৫ — বছর ধরে rate পরিবর্তনের তালিকা, প্রতিটার পেছনের কারণ, আর কোন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়েছিল।
গত পাঁচ বছরে দেশে বিদ্যুতের দাম যেভাবে নড়েছে, ১৯৯০-এর দশকের পর এমনটা আর দেখা যায়নি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে আবাসিক retail rate প্রায় ৩৫% বেড়েছে (nominal value-তে), আর ২০২৩–২০২৪-এর মধ্যেই পরপর কয়েকটা বড় সংশোধনী এসেছে। নিচে সেই পুরো timeline, প্রতিটা পরিবর্তনের পেছনের কারণ আর regulator-এর প্রকাশিত যুক্তি।
আসলে rate ঠিক করে কে
দুটো কর্তৃপক্ষ এই সংখ্যাগুলো ঠিক করে বা অনুমোদন দেয়। Bangladesh Energy Regulatory Commission (BERC), BERC আইন ২০০৩-এর অধীনে তৈরি — মূল regulator এরাই। তারা public hearing করে, কোম্পানিগুলোর খরচের proposal পর্যালোচনা করে, তারপর ট্যারিফ অর্ডার জারি করে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (MPEMR) ২০২৩ থেকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেও retail ট্যারিফ ঠিক করতে পারে। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটা সংশোধনী এই দ্বিতীয় path দিয়েই এসেছে। পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ — BERC-র hearing public, document-ভারী, আর নির্বাহী আদেশ গেজেটে অনেক কম advance notice-এ চলে আসে।
বছর ধরে timeline
২০২০ — সংশোধনের আগের baseline
২০২০-র শুরুতে আবাসিকের entry slab ছিল প্রতি kWh-এ ৳৩.৮০, সর্বোচ্চ slab (৬০০ ইউনিটের উপরে) ছিল ৳১১.৬২। LT-A-তে demand charge ছিল প্রতি kW-তে ৳৩০। কোভিডের লকডাউনে বছরের বেশির ভাগ সময় industrial demand চাপা পড়ে ছিল, কোম্পানিগুলোও বকেয়া ব্যবস্থাপনায় ব্যস্ত — তাই BERC বড় কোনো rate-এর কাজে যায়নি।
ফেব্রুয়ারি ২০২০ — মাঝারি adjustment
BERC একটা পরিমিত সংশোধনী জারি করে — গড় bulk supply tariff ৮.৪%, retail ৫.৩% বাড়ে। কারণ হিসেবে দেখানো হয় HFO-নির্ভর peaking plant-এর fuel oil-এর দাম বেড়ে যাওয়া, আর bulk-to-retail margin আবার balance-এ আনার দরকার। আবাসিকের entry slab-এর গ্রাহকরা মূলত এর প্রভাব থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।
২০২১–২০২২ — বিরতি, কিন্তু চাপ জমছে
২০২১ আর ২০২২-এ BERC formally কোনো retail revision আনেনি। ২০২২-এ আন্তর্জাতিক LNG আর কয়লার দামের ধাক্কায় কোম্পানিগুলো বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিলেও কোনো অর্ডার আসেনি। ২০২২-এর শেষ দিকে এই gap-টা accounts receivable হয়ে কোম্পানিগুলোয় জমতে থাকে, আর PDB-র IPP-payable balance দ্রুত বাড়তে থাকে। এই চাপটাই ২০২৩-এর দ্রুত পরিবর্তনের পথ তৈরি করে দেয়।
জানুয়ারি ২০২৩ — নির্বাহী আদেশের যুগ শুরু
BERC আইন সংশোধনের পর সরকার জরুরি পরিস্থিতিতে নির্বাহী আদেশে retail ট্যারিফ বদলানোর ক্ষমতা পায়। ২০২৩-এর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে তিনটা ছোট সংশোধনী আসে — প্রতিবার গড়ে প্রায় ৫% করে আবাসিক rate বাড়ে। সাধারণ ২৫০-ইউনিটের পরিবারের জন্য মোট প্রভাব দাঁড়ায় মাসে প্রায় ১১০ টাকা।
ফেব্রুয়ারি ২০২৪ — পাঁচ বছরের সবচেয়ে বড় revision
২০২৪-এর শুরুতে একটা বড় সংশোধনী আসে — আবাসিকে গড়ে প্রায় ৬.৫% আর বাণিজ্যিকে ৮% বৃদ্ধি। ৭৬–২০০ ইউনিট slab ৳৬.৯৫ থেকে ৳৭.২০ kWh-এ গেল, আর ৪০১–৬০০ slab লাফ দিয়ে ৳১২.৬৭-তে। LT-A-র demand charge প্রতি kW-তে ৳৪২-এ পৌঁছায়। সরকারের ব্যাখ্যা ছিল — ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে গত ১৮ মাসে আমদানি জ্বালানির টাকা-মূল্য ২৫%-এর বেশি বেড়েছে।
২০২৫ — TOU বিস্তার, retail স্থিতিশীল
২০২৫-এ মূল focus headline rate বাড়ানো থেকে সরে গিয়ে TOU ট্যারিফ বিস্তারে চলে যায়। LT-D3 আর MT-7-র জন্য নতুন TOU schedule আসে, ভোর ৫টা–সকাল ৯টা পর্যন্ত একটা super-off-peak window-ও তৈরি হয় — সেখানে energy স্বাভাবিক off-peak rate-এর চেয়ে প্রায় ৩৫% কম। এই পরিবর্তনটা structural — load-কে সন্ধ্যার peak থেকে ভোরের দিকে ঠেলে দেওয়াই উদ্দেশ্য, যাতে generation-এর marginal খরচ কমে। LT-A আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ২০২৫-এ আলাদা কোনো পরিবর্তন আসেনি, যদিও regulator ইঙ্গিত দিয়েছেন ২০২৬-এর শেষে ঐচ্ছিক আবাসিক TOU pilot হতে পারে।
এত পরিবর্তনের পেছনে আসল কারণগুলো
এই সময়ের প্রায় প্রতিটা সংশোধনীই কয়েকটা মৌলিক চাপে ব্যাখ্যা করা যায়:
- আমদানি জ্বালানির খরচ। বাংলাদেশ HFO, LNG আর ক্রমেই কয়লা — সব আমদানি করে। আন্তর্জাতিক দাম বাড়লে বা টাকা দুর্বল হলে generation-এর খরচ সরাসরি বাড়ে।
- IPP capacity payment। Independent Power Producer-দের চুক্তিতে capacity charge থাকে, যা PDB-কে দিতেই হয় — চাহিদা থাকুক বা না থাকুক। এই সময়ে অনেকগুলো বড় IPP চালু হওয়ায় fixed cost বেড়েছে।
- ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা। সরকার বাজেট থেকে সরাসরি দেওয়া ভর্তুকির লাইনটা ছোট করতে গিয়ে ভর্তুকির অংশটা ট্যারিফ সংশোধনের মাধ্যমে গ্রাহকের ঘাড়ে সরিয়ে দিয়েছে।
জুন ২০২৬ — সর্বশেষ সংশোধনী
এখনকার rate এসেছে BERC-র একটা retail ট্যারিফ অর্ডার থেকে, যা জুন ২০২৬ bill month থেকে কার্যকর। এতে আবাসিকের উপরের slab-গুলোর প্রতি-ইউনিট দাম বেড়েছে: ৭৬–২০০ ইউনিট ৳৭.২০ থেকে ৳৮.৫০, ২০১–৩০০ ৳৭.৫৯ থেকে ৳৯.১০, ৩০১–৪০০ ৳৮.০২ থেকে ৳৯.৬২, ৪০১–৬০০ ৳১২.৬৭ থেকে ৳১৫.০১, আর ৬০০-র উপরে ৳১৪.৬১ থেকে ৳১৭.৩৫। ৪ জুন ২০২৬-এর একটা আলাদা BERC নোটিশে নিম্ন-ব্যবহারের পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে আবাসিকের lifeline (০–৫০ ইউনিট, ৳৪.৬৩) আর প্রথম ধাপ (০–৭৫ ইউনিট, ৳৫.২৬) ইচ্ছাকৃতভাবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। LT-A-র demand charge প্রতি kW-তে ৳৪২-এই রয়ে গেছে। অ-আবাসিক দিকে বাণিজ্যিক LT-E flat rate ৳১৩.০১ থেকে ৳১৫.৩৬, আর কৃষি rate ৳৫.২৫ থেকে ৳৬.০৪-তে গেছে।
আপনার মাসিক বিলে এর মানে কী
একজন সাধারণ আবাসিক গ্রাহক ২০২০-র শুরুতে ২৫০ kWh-এ দিতেন প্রায় ১,৫০০ টাকা। ২০২৫-এর মাঝামাঝি সেই একই ২৫০ kWh-এর বিল প্রায় ২,০৫০ টাকা — nominal-ভাবে প্রায় ৩৭% বেশি। মুদ্রাস্ফীতি adjustment করলে আসল বৃদ্ধি প্রায় ১২%। কিন্তু ধাক্কাটা বাস্তব — কারণ headline rate ধাপে ধাপে বেড়েছে, ধীরে ধীরে না। ২০২৩–২০২৪-এ অনেক পরিবার পরপর দু-তিনটা "আশার চেয়ে বেশি" বিলের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।
গত ছয় মাসের প্রতিটা বিল আগের বিভিন্ন rate schedule-এ কেমন আসত — সেটা দেখতে চাইলে ইউনিট সংখ্যা ক্যালকুলেটরে বসিয়ে আগের ক্যাটাগরি select করুন। Tariff schedule explorer-এ প্রতিটা সংশোধনীর তারিখে কোন slab সীমা চলছিল — সব দেখা যাবে।
সামনে কী আশা করা যায়
কয়েকটা signal-এর দিকে নজর রাখা ভালো। BERC bulk supply margin-এর পর্যালোচনার জন্য একটা public hearing flag করেছে — এটা সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে retail revision-এর আগে আসে। Global LNG market এখনো অস্থির, $14/MMBtu-র উপরে টেকসই বৃদ্ধি হলে retail-এ আবার চাপ আসবে। ছাদের solar-এ net metering-এর adoption বেড়েছে, আর regulator feed-in pricing পুনর্বিবেচনা করতে পারেন — এতে retail rate বদলাবে না, কিন্তু নতুন solar installation-এর economics বদলে যাবে।
২০২০ থেকে ২০২৫-এর পাঁচ বছর একটা ব্যাপার পরিষ্কার করে দিয়েছে — দেশের ট্যারিফ আর "set করে ভুলে যান" ব্যবস্থা না। নিজের বিল নিজে পড়ুন, কোন schedule-এ আছেন জেনে রাখুন, আর প্রতিটা সংশোধনীর সময় ক্যালকুলেটরে ফিরে আসুন। তাহলে শুধু reactionary না হয়ে আগে থেকেই plan করতে পারবেন।